ভারত, চিন, ইরাক ও কাতারকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার দাবি ইরানি সাংসদের; অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে নতুন সংঘাত এড়াতে কাতারের কূটনৈতিক প্রস্তাব বিবেচনার আহ্বান ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনও বিধিনিষেধ নেই বলে ফের জানাল ইরান সরকার। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি বিষয়ক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ হায়াত-মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, ভারত, চিন, ইরাক ও কাতারকে এই জলপথ দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে এই দেশগুলির জাহাজ কোনও বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে বলে তাঁর দাবি।
দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার এক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, ভারতকে এই ছাড় দেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য প্রয়োজনীয় ওষুধ আমদানি সহজ করা। অন্যদিকে, চিনের ক্ষেত্রে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে।
এদিকে আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতায় সামনে আসা একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার জন্য ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কাকে ইরানের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে অন্যতম সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাত এড়াতে কাতারের প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
জানা গেছে, সম্প্রতি কাতারের বিশেষ দূতেরা তেহরান সফর করেছেন। দীর্ঘ আলোচনায় না গিয়ে প্রস্তাবিত কাঠামো সম্পর্কে ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাই ছিল তাঁদের সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান