Saturday, October 10, 2026
Greetings: 15th August
বাড়ি বিদেশ ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল আমেরিকা, জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্য ট্রাম্পের

২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল আমেরিকা, জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্য ট্রাম্পের

২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল আমেরিকা, জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্য ট্রাম্পের

বিশ্বজুড়ে ডিজেল সরবরাহে বিঘ্ন এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে রাশিয়ার উৎপত্তিস্থলভিত্তিক ডিজেল জ্বালানি বিক্রি ও আমদানির ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল আমেরিকা। মার্কিন অর্থ দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত এই ছাড় কার্যকর থাকবে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথোপকথনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় রুশ ডিজেল জ্বালানির বিক্রি, সরবরাহ, জাহাজ থেকে খালাস এবং আমদানিসংক্রান্ত নির্দিষ্ট লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আমেরিকায় ডিজেল আমদানিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগারের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর জেরে ডিজেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মস্কো। অন্যদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর হামলার ফলে জ্বালানি সরবরাহের উপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকায় জ্বালানির দাম কমানো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া অবিলম্বে তিন লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে পাঁচ লক্ষ টন, পরবর্তী পর্যায়ে ১০ লক্ষ টন এবং আরও পরে অতিরিক্ত ৩০ লক্ষ টন ডিজেল সরবরাহ করা হতে পারে বলে তিনি জানান। তবে পরবর্তী সরবরাহের পরিমাণ রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলির পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহে সম্মত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়া থেকে প্রস্তাবিত জ্বালানি সরবরাহ এবং হরমুজ প্রণালীর উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ—এই দুই বিষয় মিলিয়ে ডিজেলের দাম কমাতে সহায়তা করবে। আমেরিকার কৃষক, পশুপালক ও ট্রাকচালকদের জ্বালানি ব্যয় কমানোকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন।

তবে মার্কিন সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী কোনও সমঝোতা ছাড়া রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে মস্কো যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত করার সুযোগ পেতে পারে। যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়ার উপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং মস্কোর উপর চাপ বাড়ানোর পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।

Santosh Paul
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha