পিয়ংইয়ংয়ের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ঘিরে উদ্বেগ, জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পড়েছে ক্ষেপণাস্ত্রগুলি; সামরিক শক্তি বাড়ানোর পথে সিওল ও পিয়ংইয়ং।
ফের একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর দাবি, আজ সকালে উত্তর কোরিয়া থেকে পূর্ব দিকের জলসীমা লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ছোড়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পিয়ংইয়ংয়ের ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষা এবং দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত থাকার জেরে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছাকাছি একটি এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলি নিক্ষেপ করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উত্তর কোরিয়া তাদের বিমানবন্দরকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।
অন্যদিকে, জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে। প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (EEZ) বাইরে গিয়ে পড়েছে। তবে এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া কী বার্তা দিতে চাইছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের তৈরি প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের উড়ান পরীক্ষা চালিয়েছিল। তার কয়েক দিনের মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি কঠোর অবস্থান বজায় রেখে উত্তর কোরিয়া ক্রমাগত নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দিচ্ছে পিয়ংইয়ং। গত ৩ অক্টোবর উত্তর কোরিয়া একটি হাইপারসনিক মধ্যম-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল বলে জানা যায়। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তিনি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষপাতী হলেও দেশের প্রচলিত সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরতা কমানোর পক্ষেও মত প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা—এই দুইয়ের সংঘাতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু না হলে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমানো কঠিন হতে পারে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান