দেশের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-এর সমমর্যাদায় আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পথ এবার সম্পূর্ণ হয়েছে। Prevention of Insults to National Honour (Amendment) Bill, 2026-এ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্মতি দেওয়ার পর তা আইনে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া বা গানটির প্রতি অবমাননাকর আচরণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
সংসদের রাজ্যসভায় ২৯ জুলাই বিলটি পাস হয়। পরদিন লোকসভাতেও বিলটি অনুমোদিত হয়। নতুন আইনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ক্ষেত্রে জাতীয় সংগীতের মতোই আইনি সুরক্ষা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, গানটির পরিবেশনে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া বা বিঘ্ন সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি হতে পারে।
৬টি স্তবকের ‘বন্দে মাতরম’, সময় ১৯০ সেকেন্ড
এর আগে ২০২৬ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের জন্য নতুন প্রোটোকল জারি করে। সরকারি অনুষ্ঠান ও নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক আয়োজনে গানটির ছয়টি স্তবক পরিবেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ পরিবেশনের নির্ধারিত সময় ১৯০ সেকেন্ড বা ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। কোনো অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘জনগণমন’ দুটিই পরিবেশিত হলে ‘বন্দে মাতরম’ আগে পরিবেশন করার নিয়মও নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৫০ বছর পূর্তিতে বিশেষ গুরুত্ব
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে গানটির সরকারি প্রোটোকল আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন আইন ও নির্দেশিকার মাধ্যমে জাতীয় গানটির মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় কেন্দ্রীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এবারের স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের আগে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেই জাতীয় গানটির নতুন প্রোটোকল বিশেষভাবে নজর কাড়তে চলেছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান