Sunday, August 2, 2026
বিজ্ঞাপন 728 x 90
বাড়ি দেশ শাহজাদ ভাট্টি মডিউল তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সন্ধান পেল STF

শাহজাদ ভাট্টি মডিউল তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সন্ধান পেল STF

শাহজাদ ভাট্টি মডিউল তদন্তে বিস্ফোরক তথ্য, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সন্ধান পেল STF

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা (STF)-র তদন্তে শাহজাদ ভাট্টি মডিউলকে ঘিরে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। জঙ্গি যোগসূত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত একাধিক পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের পরিচয় ও যোগাযোগের পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে STF সূত্রে জানা গেছে।

তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রটি যোগাযোগের জন্য ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, এলিমেন্ট এক্স এবং সেশন-এর মতো এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করত। পাশাপাশি ব্রিটেন ও মেক্সিকোর সিম কার্ড ব্যবহার করে নজর এড়ানোর চেষ্টা করা হতো। তদন্তে "রানা", "উজায়ের", "আবিদ জাট ৩৩৩" এবং "হামাদ" নামে একাধিক পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের নাম উঠে এসেছে, যাদের মাধ্যমে গোটা নেটওয়ার্ক পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ।

তদন্তে উঠে এসেছে, শাহজাদ ভাট্টি পাকিস্তানের এক বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-সমর্থিত নেটওয়ার্ক এবং একাধিক উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সম্প্রতি পর্তুগালে তাঁর ওপর হামলার ঘটনাও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

STF-এর দাবি, এই মডিউলের সঙ্গে খালিস্থান আর্মড ফোর্স (KAF), খালিস্থান লিবারেশন আর্মি (KLA), পাঞ্জাব সোভরেণ্টি অ্যালায়েন্স (PSA), শের-ই-পাঞ্জাব ব্রিগেড (SPB), ইউনাইটেড শিখ ব্রাদারহুড (USB), শিখ টাইগার্স অফ খালিস্থান (STK) এবং তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্তান (TTH)-এর মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের যোগসূত্রের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে হরিয়ানার অম্বালা ও বলদেব নগর থানা চত্বরে বিস্ফোরণ মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র চার্জশিটেও শাহজাদ ভাট্টির নাম রয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় যুবসমাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছিল। দিল্লির জন্তর মন্তরের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনাও ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

এই মামলায় হামিম মণ্ডলের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তাঁকে ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং 'হানি ট্র্যাপ'-এর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হাওড়ার এক প্রবীণ রাজনীতিবিদের ছেলেকে লক্ষ্য করে অপহরণ ও ব্ল্যাকমেইলের ছকও কষা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এছাড়া তদন্তকারী সংস্থার দাবি, একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালিয়ে তাদের রুট ম্যাপ সংগ্রহ করে পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

STF-এর মতে, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং উত্তর প্রদেশজুড়ে এই মডিউলের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত এগিয়ে চলেছে। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য, যোগাযোগের রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে গোটা নেটওয়ার্কের বিস্তার ও কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

Santosh Paul
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha