ভারতের জনগণনার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পৃথক ‘ভিখারি ও ভবঘুরে’ শ্রেণীটি তুলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশে মোট ভিখারির সংখ্যা কত, তার আলাদা কোনও সরকারি নথিবদ্ধ পরিসংখ্যান থাকবে না।
কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক ছুৎমার্গ ও লজ্জার কারণে অনেকেই নিজেদের ভিখারি হিসেবে সরকারি নথিতে পরিচয় দিতে চান না। এরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল ২০১১ সালের জনগণনায়। সে সময় মাত্র প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ নিজেদের ভিখারি হিসেবে নথিভুক্ত করেছিলেন।
নতুন শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী, ভিখারিদের আর পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হবে না। তাঁদের ‘অন্যান্য’ শ্রেণীর অধীনে উপার্জনহীন ব্যক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে জনগণনার সামগ্রিক তথ্যে তাঁদের উপস্থিতি থাকলেও পৃথকভাবে দেশে ভিখারির মোট সংখ্যা জানা যাবে না।
এবারের জনগণনায় মোট ৪০টি প্রশ্ন রাখা হয়েছে। নাগরিকদের বাসস্থান, পানীয় জল, শৌচাগার, ঘরের বিভিন্ন উপকরণ, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, মোটরবাইক ও সাইকেলের মতো বিষয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি কোভিড টিকাকরণের বিষয়েও তথ্য নেওয়া হবে।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য সামাজিক কলঙ্ক কমানো এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা হলেও, এর ফলে ভবিষ্যতে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা ও পরিস্থিতি নিয়ে নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন হতে পারে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান