Monday, October 12, 2026
Duga Puja 2026
বাড়ি দেশ ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হল দেশীয় যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস মাংগ্রোল’

ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হল দেশীয় যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস মাংগ্রোল’

ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হল দেশীয় যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস মাংগ্রোল’

দেশীয় প্রযুক্তিতে শক্তিশালী হচ্ছে ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা, উপকূলীয় জলসীমায় বাড়বে সাবমেরিন মোকাবিলার সক্ষমতা।

ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হল দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তৃতীয় অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট (ASW-SWC) ‘আইএনএস মাংগ্রোল’। কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের (CSL) তৈরি এই যুদ্ধজাহাজটি মুম্বইয়ের নেভাল ডকইয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। উপকূলবর্তী ও অগভীর সমুদ্র অঞ্চলে শত্রুপক্ষের সাবমেরিন শনাক্ত করা এবং তা মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে এই যুদ্ধজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কমিশনিং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পশ্চিম নৌ কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় ভাটসায়ন। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, জাহাজটির ৮০ শতাংশেরও বেশি উপাদান দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। তাঁর মতে, আইএনএস মাংগ্রোল ভারতের প্রকৌশল দক্ষতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জাতীয় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

নৌবাহিনীর সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে ভাইস অ্যাডমিরাল ভাটসায়ন জানান, ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত ১০টি জাহাজ নৌবাহিনীতে কমিশন করা হয়েছে এবং শীঘ্রই আরও আটটি জাহাজ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি, ২০৩৪ সালের মধ্যে নৌবাহিনীর প্রায় ৬০ শতাংশ প্ল্যাটফর্মের গড় বয়স ১০ বছরের কম হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গুজরাটের জুনাগড় জেলার উপকূলীয় শহর মাংগ্রোলের নাম অনুসারে যুদ্ধজাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে। শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যবন্দর হিসেবেও পরিচিত। এর আগে ‘আইএনএস মাংগ্রোল’ নামে একটি মাইনসুইপার ভারতীয় নৌবাহিনীতে পরিষেবা দিয়েছিল, যা ৭ এপ্রিল ২০০৪ সালে অবসর গ্রহণ করে। নতুন যুদ্ধজাহাজটি আধুনিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

আধুনিক সেন্সর ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত আইএনএস মাংগ্রোলে রয়েছে ‘অভয়’ হাল-মাউন্টেড সোনার, হালকা ওজনের টর্পেডো, দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার এবং ‘মারীচ’ অ্যাডভান্সড টর্পেডো ডিকয় সিস্টেম। এই প্রযুক্তিগুলির সাহায্যে শত্রু সাবমেরিনের অবস্থান শনাক্ত করা, পানির নিচের হুমকি মোকাবিলা করা এবং টর্পেডো আক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত আইএনএস মাংগ্রোলের অন্তর্ভুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে উপকূলীয় জলসীমার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধপ্রস্তুতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Santosh Paul
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha