উপগ্রহ উৎক্ষেপণে বিশ্ববাজারের চাহিদা মেটাতে মহাকাশ পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, আগামী দুই মাসের মধ্যে গগনযানের প্রথম মানববিহীন পরীক্ষার পরিকল্পনা
দেশের মহাকাশ গবেষণা ও উপগ্রহ উৎক্ষেপণ ক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৯ সালের মধ্যে চারটি কার্যকর লঞ্চ প্যাড গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। সংস্থার চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনার আওতায় তামিলনাড়ুর তুতিকোরিন জেলার কুলশেখরপট্টিনমে ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণযান (SSLV)-এর জন্য প্রায় ২,০০০ একর জমিতে একটি বিশেষ মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তৈরি করা হবে। পাশাপাশি, শ্রীহরিকোটায় তৃতীয় লঞ্চ প্যাড নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশ্বজুড়ে উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতেই এই উদ্যোগ বলে জানান তিনি।
চেন্নাইয়ের কাছে পোরুরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইসরো প্রধান দেশের মহাকাশ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কুলশেখরপট্টিনমের প্রস্তাবিত মহাকাশ কেন্দ্রটিতে উপগ্রহ ও উৎক্ষেপণযান সংযোজনের ভবন, লঞ্চ প্যাড, রেলপথ ব্যবস্থা এবং টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং ও কমান্ড পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
এদিকে, ভারতের প্রথম মানববাহী মহাকাশ অভিযান ‘গগনযান’ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন নারায়ণন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে গগনযানের প্রথম মানববিহীন পরীক্ষামূলক উড়ান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর মহাকাশচারীদের নিয়ে মূল অভিযান শুরুর আগে আরও দুটি মানববিহীন পরীক্ষা করা হবে।
এই পরীক্ষাগুলির মাধ্যমে মহাকাশযানের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা পরিকাঠামো, মহাকাশচারীদের জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থা এবং মহাকাশযানের অভ্যন্তরীণ মডিউলগুলির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। বিভিন্ন চাপ, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থাগুলি কতটা কার্যকর থাকে, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
গগনযান অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরো ইতিমধ্যেই প্রায় ৮,০০০টি ভূমিভিত্তিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে, নির্বাচিত চার মহাকাশচারী বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলে জানান ইসরো চেয়ারম্যান।
চন্দ্রাভিযানের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন নারায়ণন। তিনি জানান, ভারতের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ চন্দ্রাভিযান চন্দ্রযান-৫ জাপানের মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায় পরিচালিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অভিযানে প্রায় ৩৫০ কেজি ওজনের একটি রোভার চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানোর কথা, যা সেখানে ১০০ দিন ধরে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে।
ইসরোর বেসরকারিকরণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে নারায়ণন স্পষ্ট করে দেন, দেশের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থাকে বেসরকারিকরণের কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে হাজার হাজার উপগ্রহের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকারি সক্ষমতার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলির প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উৎপাদন ক্ষমতাকেও কাজে লাগাতে হবে। সেই লক্ষ্যেই মহাকাশ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইসরো।
ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, গগনযান অভিযানের প্রস্তুতি এবং জাপানের সঙ্গে যৌথ চন্দ্রাভিযানের পরিকল্পনা দেশের মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ পরিষেবার ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান