১৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, ওড়িশা ও দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা; মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা
শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘আর্নব’। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাপটলা থেকে বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায়, ইয়ানামের কাছাকাছি ঘূর্ণিঝড়টির আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ইতিমধ্যেই ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে মেঘলা আকাশ ও ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পারাদ্বীপ এবং ভুবনেশ্বর-সহ একাধিক এলাকায় বৃষ্টির দাপট আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের বিভিন্ন অংশে হলুদ ও কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের মূল প্রভাব অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও এর পরোক্ষ প্রভাব থেকে রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা কম দক্ষিণবঙ্গের। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘা, মন্দারমণি ও শঙ্করপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। সঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর দুপুরের পর দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট ধীরে ধীরে কমতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য বিপদ মাথায় রেখে ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবন, নামখানা, বকখালি ও দিঘা-সহ উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কয়েকটি এলাকায় সমুদ্রসৈকতে প্রবেশের উপরেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের উপর নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও পর্যটকদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অপ্রয়োজনে সমুদ্রের ধারে না যাওয়া, ঝড়ের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং সরকারি আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ সতর্কবার্তা অনুসরণ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান