প্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ, ‘AI Maa’-দের হাতে তুলে দেওয়া হলো ট্যাবলেট
সমাজের একেবারে প্রান্তিক মানুষের কাছে উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও সরকারি পরিষেবার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার বার্তা নিয়ে পালিত হলো অন্ত্যোদয় দিবস। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে সূচনা হলো ‘Ekdunia Antyodaya Digital Mission’-এর।
উদ্যোক্তাদের দাবি, এই মিশনের লক্ষ্য শুধু ডিজিটাল সংযোগ তৈরি করা নয়, বরং প্রযুক্তিকে মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে বিভিন্ন পরিষেবা আরও সহজলভ্য করে তোলা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন YAS, SWE & SE দপ্তরের মন্ত্রী শ্রী টিঙ্কু রায়, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর (ড.) দেবব্রত দাস, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্রী বিশ্বজিৎ শীল, পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা শাসক ও সমাহর্তা ড. বিশাল কুমার, IAS-সহ বিশিষ্ট অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্ব ছিল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘AI Maa’ স্বেচ্ছাসেবিকাদের হাতে ট্যাবলেট তুলে দেওয়া। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিষেবার সুযোগ পৌঁছে দিতে AI Maa-রা প্রযুক্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সেতুর ভূমিকা পালন করবেন বলে জানানো হয়।
প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল সরঞ্জামে সজ্জিত এই স্বেচ্ছাসেবিকারা গ্রামের মানুষের কাছাকাছি থেকেই স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, সরকারি পরিষেবা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবা গ্রহণে সহযোগিতা করবেন। এর ফলে পরিষেবা পেতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে বারবার দূরের শহর বা সরকারি দপ্তরে ছুটতে হবে না বলেই উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্তদের আশা।
Ekdunia Antyodaya Mission-এর প্রতিষ্ঠাতা মলয় পীট বলেন, “অন্ত্যোদয় মানে শুধু শেষ মানুষের কাছে পৌঁছনো নয়, তাঁর পাশে দাঁড়ানো। আমরা চাই প্রযুক্তি যেন মানুষের জীবনে দূরত্ব তৈরি না করে, বরং দূরত্ব কমিয়ে দেয়।” গ্রামের মা, প্রবীণ ব্যক্তি কিংবা যুবক—প্রয়োজনের সময় যাতে নিজের কাছেই ডিজিটাল সহায়তা পান, সেই লক্ষ্যেই AI Maa-দের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান তিনি।
উদ্যোক্তাদের মতে, বাড়ির কাছাকাছি বসেই যখন একজন মানুষ স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পান, সরকারি পরিষেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া বুঝতে পারেন কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারেন, তখন প্রযুক্তি কেবল একটি যন্ত্র থাকে না—তা হয়ে ওঠে সুযোগ, স্বস্তি ও মর্যাদার মাধ্যম।
‘মানুষের হাতে প্রযুক্তি, দোরগোড়ায় পরিষেবা’—এই ভাবনাকে সামনে রেখেই Ekdunia Antyodaya Digital Mission-এর মাধ্যমে ডিজিটাল পরিষেবার সুযোগ গ্রামের শেষ প্রান্তের মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান