Thursday, October 1, 2026
Greetings: 15th August
বাড়ি রাজ্য পালাটানায় বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকের কাছাকাছি, চাপে OTPC

পালাটানায় বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকের কাছাকাছি, চাপে OTPC

পালাটানায় বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকের কাছাকাছি, চাপে OTPC

ত্রিপুরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৭২৬ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পে বর্তমানে উৎপাদন প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এর ফলে প্রকল্প পরিচালনাকারী সংস্থা ONGC Tripura Power Company Limited (OTPC)-এর আর্থিক পরিস্থিতি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর হওয়ায় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকলে উৎপাদন ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলির দাবি, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি বর্তমানে উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

তবে শুধু জ্বালানি সরবরাহের সমস্যাই নয়, কেন্দ্রটির রক্ষণাবেক্ষণ এবং ইউনিটগুলির শাটডাউন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সূত্রের দাবি, যে ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সাধারণত প্রায় এক মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, কিছু ক্ষেত্রে তা দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত গড়িয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইউনিট বন্ধ থাকলে উৎপাদন কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সামগ্রিক আর্থিক কর্মক্ষমতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

এক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা, কাজের সময়সীমা এবং শাটডাউন ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

উৎপাদন দীর্ঘ সময় ধরে কম থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থার আয়েও তার প্রভাব পড়তে পারে। পালাটানায় বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি OTPC-এর রাজস্ব ও আর্থিক কর্মক্ষমতার ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে, সে বিষয়ে অবশ্য বিস্তারিত সরকারি বা কোম্পানি-প্রকাশিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

সূত্রের আরও দাবি, আর্থিক চাপের সম্ভাব্য প্রভাব কোম্পানির কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) সংক্রান্ত ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি।

অপারেশনাল সমস্যার পাশাপাশি OTPC-র অভ্যন্তরীণ প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও একাংশ কর্মীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

কিছু কর্মকর্তা OTPC ছেড়ে চলে গিয়েছেন এবং আরও কয়েকজন পদত্যাগের কথা ভাবছেন বলেও সূত্রের দাবি। যদিও কর্মীদের এই অভিযোগ এবং পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

যদি কর্মী ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে অভিজ্ঞ জনবল ধরে রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

পালাটানা ত্রিপুরার বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি কাটিয়ে কীভাবে কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে, তা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, রক্ষণাবেক্ষণ দ্রুত সম্পন্ন করা, শাটডাউন পরিকল্পনার উন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির সময়মতো সার্ভিসিং—এসব বিষয়কে সম্ভাব্য সমাধানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে OTPC-র নির্দিষ্ট দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ কী, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত প্রকাশ্য ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।

পালাটানায় উৎপাদন কমে যাওয়া, গ্যাস সরবরাহ, দীর্ঘ রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের অসন্তোষ—এই সব বিষয় নিয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি উঠছে।

বর্তমান উৎপাদন কত, কতটা গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, কোন ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে এবং সেগুলি কবে পুনরায় চালু হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে প্রকল্পটির বর্তমান পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।

৭২৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা ত্রিপুরার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পালাটানার বর্তমান সংকট এবং OTPC-র ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্যবাসী।

Santosh Paul
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha