আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের ১১৮তম জন্মজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আগরতলার কামান চৌমুহনীতে মহারাজের আবক্ষ মূর্তির পাদদেশে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা, রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মহারাজা বীর বিক্রমের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা বলেন, অতীতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজন্যবর্গের ইতিহাস এবং তাঁদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড মানুষের সামনে আড়াল করে রাখা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’ বার্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের জন্য যাঁরা কাজ করেছেন এবং মানিক্য রাজবংশের যাঁরা ত্রিপুরার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাঁদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও স্মরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মহারাজা বীর বিক্রমের শাসনকালে উপজাতি ও অ-উপজাতি—অর্থাৎ জাতি ও জনজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে এক চমৎকার মেলবন্ধন ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ও আধুনিক মনোভাব ত্রিপুরার উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
বিদেশ ভ্রমণের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা মহারাজের চিন্তাভাবনাকে আরও প্রসারিত করেছিল বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগরতলায় অন্যতম প্রাচীন পুরসভা প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে তাঁর একাধিক উদ্যোগ আধুনিক ত্রিপুরার ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে পরবর্তী মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে। সেখানে রাজ্যের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, আধুনিক চিন্তাধারা এবং ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান