আগামী শনিবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হচ্ছে ১৮তম BRICS শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেবেন বিশ্বের ১১টি প্রধান উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা। সম্মেলনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজধানী দিল্লিতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি।
BRICS-এর সদস্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। পাশাপাশি বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনাম BRICS-এর অংশীদার দেশ হিসেবে সম্মেলনে অংশ নেবে।
বর্তমানে BRICS দেশগুলি সম্মিলিতভাবে বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যা এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশ জিডিপির প্রতিনিধিত্ব করে।
সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অংশ নেবেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলিও অংশ নেবেন। ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিদেশমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা এবং সৌদি আরবের হয়ে উপস্থিত থাকবেন বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।
প্রথম দিনেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি
শনিবার BRICS সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে ‘Inclusive Global Governance and Strengthening Multilateralism’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন ও বহুপাক্ষিকতার শক্তিশালীকরণ বিষয়ে একটি রুদ্ধদ্বার অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর রাষ্ট্রনেতারা ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘Bharat Innovates’ প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন। যৌথভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তাঁরা। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ নৈশভোজ। সম্মেলনের ফাঁকে বিভিন্ন BRICS নেতার সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
রবিবার BRICS-এর অংশীদার দেশ এবং Outreach Invitees-এর নেতাদের স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ‘Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability: Shaping the Future for Inclusive Global Growth’ শীর্ষক অধিবেশনে অংশ নেবেন বিশ্বনেতারা।
নিরাপত্তায় দিল্লিতে ব্যাপক প্রস্তুতি
BRICS সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-সহ একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিশ্বনেতাদের সফর নির্বিঘ্ন করতে বিদেশ মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশ সমন্বয় করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতে ন্যূনতম অসুবিধা হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
রাজধানীতে প্রায় ১৫ হাজার দিল্লি পুলিশ কর্মী এবং ২০০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সফররত রাষ্ট্রপ্রধানদের চলাচলের সম্ভাব্য রুটগুলিতে বিশেষ নজরদারি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে।
চারটি মূল স্তম্ভকে সামনে রেখে ভারতের BRICS সভাপতিত্ব
২০২৬ সালে ভারতের BRICS সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি চারটি—সহনশীলতা (Resilience), উদ্ভাবন (Innovation), সহযোগিতা (Cooperation) এবং স্থায়িত্ব (Sustainability)।
ভারত সভাপতিত্ব গ্রহণের পর থেকে BRICS-এর বিভিন্ন স্তরে ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠক, বিভিন্ন মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, Sherpa ও Head of Agency পর্যায়ের বৈঠক, Working Group-এর বৈঠক এবং People-to-People ও Business-to-Business পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচি।
বিশ্ব অর্থনীতি, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থ—এই সবকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে এবারের BRICS সম্মেলন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান