ত্রিপুরা ও মিজোরামের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুই রাজ্যের প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত সরকারি পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং উত্তেজনা এড়িয়ে উন্নয়নমূলক কাজ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, সীমান্ত সংক্রান্ত জমির নথিপত্র যাচাই ও সমন্বয়ের জন্য সার্ভে অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর যৌথ কারিগরি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সার্ভে অব ইন্ডিয়ার শিলচর কার্যালয়ে এই বৈঠকগুলি আয়োজন করা হবে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মাঠপর্যায়ে যৌথ সমীক্ষা শুরু করার আগে দুই রাজ্যের কাছে থাকা সীমান্ত সংক্রান্ত জমির নথি ও রেকর্ড পর্যালোচনা করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ কারিগরি দল মাঠপর্যায়ে সমীক্ষা চালাবে।
প্রশাসনিক সমন্বয় আরও কার্যকর করতে দুই রাজ্যই পৃথক নোডাল অফিসার নিয়োগ করবে। সীমান্ত এলাকার দৈনন্দিন প্রশাসনিক বিষয়, যোগাযোগ এবং সমস্যা দ্রুত সমাধানে এই নোডাল অফিসাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
সরকারি পর্যায়ের এই বৈঠকের আগে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পরিষদের (NEC) বৈঠকের ফাঁকে শিলংয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা এবং মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা-র মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়। সেই আলোচনার পরই সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে প্রশাসনিক পর্যায়ে নিয়মিত সংলাপ ও সমন্বয়ের উদ্যোগ আরও গতি পায়।
সম্প্রতি ত্রিপুরা সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় একটি পর্যটন প্রকল্পের নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে মিজোরামের কয়েকজন গ্রামবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে দুই রাজ্যের মধ্যে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়।
নতুন ব্যবস্থায় সীমান্ত এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি জমির নথি যাচাই, যৌথ সমীক্ষা এবং নিয়মিত প্রশাসনিক যোগাযোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলি সমাধানের পথ খোঁজা হবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান