Monday, September 14, 2026
Greetings: 15th August
বাড়ি দেশ ব্রিকস সম্মেলনে মোদির আহ্বান: সংঘাত-সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হোক গ্লোবাল সাউথ

ব্রিকস সম্মেলনে মোদির আহ্বান: সংঘাত-সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হোক গ্লোবাল সাউথ

ব্রিকস সম্মেলনে মোদির আহ্বান: সংঘাত-সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হোক গ্লোবাল সাউথ

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং জলবায়ু সংকট সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমর্থন আরও জোরদার করার আহ্বান জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, বিশ্বে সংঘাত ও উত্তেজনার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। পাশাপাশি প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ‘অস্ত্রীকরণ’ বৈশ্বিক উন্নয়ন ও অভিন্ন সমৃদ্ধির পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

২০০৬ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস বর্তমানে ১১টি দেশের জোট। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বকারী এই গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং পশ্চিমা-নির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প গড়ে তোলার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

সম্মেলনে মোদি বলেন, মহামারি, জলবায়ু বিপর্যয় এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন দেখিয়ে দিয়েছে যে পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত বর্তমান বিশ্বে কোনো সংকটই আর একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ভবিষ্যতে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জোরদার করতে ব্রিকস দেশগুলো একটি সমন্বিত প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে মোদি ব্রিকসের সিদ্ধান্তগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর কথায়, সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যেন শুধু নথিপত্রে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তব জীবনে তার প্রভাব দেখা যায়।

তিনি বলেন, গত দুই দিনের আলোচনা এই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে ব্রিকস শুধুমাত্র কয়েকটি দেশের একটি গোষ্ঠী নয়, বরং ‘সমাধানের একটি ইকোসিস্টেম’। একই সঙ্গে পরবর্তী মেয়াদে ব্রিকসের সভাপতিত্ব গ্রহণ করায় চীনকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

শনিবার প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য ও সুদানে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রিকস নেতারা সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিতে সংস্কারের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর পক্ষেও মত দিয়েছে ব্রিকস।

জাতিসংঘ অনুমোদিত নয়—এমন একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের বিরোধিতা করেছে জোটটি। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে দুর্বল করে।

স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো, আন্তঃসীমান্ত অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল পরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর পক্ষেও সমর্থন জানিয়েছে ব্রিকস।

ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ভিন্নমতসম্পন্ন দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা ছিল এবারের সম্মেলনের অন্যতম বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্যে পৌঁছানোকে তাই ব্রিকসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Santosh Paul
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha