ত্রিপুরার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নবীকরণযোগ্য শক্তি প্রকল্প তীর্থমুখের ডম্বুর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ফের সচল করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকা কেন্দ্রটির তিনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে কারিগরি পরিদর্শন ও সমীক্ষার কাজ।
১৯৬৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর ১৯৭০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছিল ডম্বুর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। তিনটি ইউনিটে ৫ মেগাওয়াট করে মোট ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা ছিল প্রকল্পটির। কিন্তু দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, যন্ত্রপাতির বার্ধক্য এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় ইউনিটগুলি।
২০১০ সালে প্রথম ইউনিট এবং ২০২১ সালে দ্বিতীয় ইউনিট অচল হয়ে পড়ে। অবশিষ্ট তৃতীয় ইউনিটটিও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে রাজ্যে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যত তলানিতে এসে ঠেকে।
জলের নিচে আধুনিক প্রযুক্তিতে পরিদর্শন
ডম্বুর প্রকল্পের ড্যাম ও অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামোর বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবার আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। ডম্বুর জলাশয়ে রিমোট-কন্ট্রোলড ওয়াটারক্রাফট নামিয়ে জলের নিচে বিভিন্ন অংশের পরিদর্শন চালানো হয়েছে।
কেরালাভিত্তিক সংস্থা ‘আইরোভ’ (iRove)-এর মাধ্যমে পরিচালিত এই সমীক্ষায় ড্যামের গেট, সম্ভাব্য লিকেজ পয়েন্ট এবং দীর্ঘদিনের পুরনো পরিকাঠামোর বিভিন্ন কারিগরি দিক পরীক্ষা করা হয়। সংস্থার প্রতিনিধি বরুণ এডিসন ইতিমধ্যেই সমীক্ষার রিপোর্ট ত্রিপুরা পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড (TPGL)-এর কাছে জমা দিয়েছেন।
সস্তা ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা
বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ডম্বুর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পুনরুজ্জীবন ত্রিপুরার বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন করে বড় কোনও বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ না করেই পুরনো পরিকাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সরকার।
ডম্বুরের ইউনিটগুলি পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে রাজ্যে তুলনামূলক কম খরচে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়বে। একইসঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে রাজ্যের পুরনো ঐতিহ্যও ফিরে আসবে বলে আশা করছে ত্রিপুরা সরকার ও TPGL।
স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত ডম্বুর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, কেন্দ্রটি ফের চালু হলে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, গোটা তীর্থমুখ ও ডম্বুর এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি আসবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান