ত্রিপুরা এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ভোটগণনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাজ্যের একাধিক স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খোয়াই জেলার তুলাশিখর এবং ধলাই জেলার সালেমা ব্লকের মহারানি এলাকায় পৃথক ঘটনায় সংঘর্ষ, আহত এবং পথ অবরোধের অভিযোগ উঠেছে।
তুলাশিখর আরডি ব্লকের ভারত সর্দার বিদ্যালয়ে ভোটগণনা কেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয়। ঘটনায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনকে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে সালেমা ব্লকের মহারানি এলিজাবেথিয়া হাই স্কুলে গণনাকেন্দ্রেও রাজনৈতিক উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। সিপিআই(এম)-এর অভিযোগ, তাদের নিযুক্ত গণনা এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং এজেন্ট কার্ড কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে মহারানি এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন সিপিআই(এম) কর্মী-সমর্থকরা।
অন্যদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির পক্ষ থেকেও তিপ্রা মথার সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপির দাবি, তাদের প্রার্থী ও দলীয় কর্মীদের নিরাপত্তার কারণে মহারানি ছেড়ে শান্তিরবাজারের দিকে যেতে হয়। পরে অভিযোগের প্রতিবাদে হালহালিতে কামালপুর-আমবাসা সড়ক অবরোধ করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
একই গণনাকেন্দ্র ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত সরকারি বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।
এদিকে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগণনা চলায় বিভিন্ন কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ধরে গণনা চলার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, সমস্ত বৈধ গণনা এজেন্টকে নিরাপদে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে এবং কোনও ধরনের বাধা বা রাজনৈতিক সংঘর্ষ যেন গণনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করে। রাজ্যের ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির ফলাফল শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে প্রকাশের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান