Wednesday, October 7, 2026
Greetings: 15th August
বাড়ি রাজ্য রাজ্যে চিকিৎসা শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকারের একাধিক উদ্যোগ — মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে চিকিৎসা শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকারের একাধিক উদ্যোগ — মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে চিকিৎসা শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকারের একাধিক উদ্যোগ — মুখ্যমন্ত্রী

চিকিৎসা পরিষেবার প্রসারের পাশাপাশি রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানালেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের যাতে নিজেদের রাজ্যেই চিকিৎসা বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়, সেজন্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান।

ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে মহাকরণে আয়োজিত এক পর্যালোচনাসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজ্যে কোনো হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ছিল না। ফলে ছাত্রছাত্রীদের বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজ্যের বাইরে গিয়ে হোমিওপ্যাথি বিষয়ে পড়াশোনা করতে হতো। বর্তমানে রাজ্যে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ গড়ে ওঠা এবং চিকিৎসা পরিকাঠামোর উন্নয়নের ফলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর মতে, শতবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো ও সামগ্রিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে ত্রিপুরায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নেও সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর সহায়তায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজ্যে একটি আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন হেলথ সেন্টারের পরিকাঠামোগত উন্নয়নও করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকনির্দেশনায় ত্রিপুরায় স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসারে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রের পাশাপাশি পর্যটন, সড়ক যোগাযোগ এবং রাজ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ থাকায় উন্নয়নমূলক কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার আধুনিকীকরণের বিষয়েও গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শতবার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসা পরিষেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি গবেষণা ও নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অরিন্দম দত্ত, টিএমসি-র চেয়ারম্যান ডা. এস. পি. দাস, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. প্রবাল নিয়োগী।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজের প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন এবং শতবার্ষিকী উদযাপনের শুভ সূচনা করেন।

Santosh Paul
সাংবাদিক (Journalist)

মন্তব্য সমূহ (0)

  • এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

আপনার মতামত জানান

Captcha