চিকিৎসকদের প্রভাবিত করতে উপহার ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ—ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থার বিপণন নীতিতে আইনি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ শীর্ষ আদালতের।
চিকিৎসকদের উপহার ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়াসহ ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলির বিপণন পদ্ধতিতে বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন কি না, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ একটি আবেদনের শুনানিতে এই নির্দেশ দেয়। ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ও চিকিৎসকদের মধ্যে অনৈতিক যোগাযোগ এবং চিকিৎসকদের প্রভাবিত করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কমিটি সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের মতামত বিবেচনা করবে। ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলির বিপণন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে পৃথক কোনও বিধিবদ্ধ কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে কি না, থাকলে সেই কাঠামোর রূপ কী হওয়া উচিত—কমিটি সে বিষয়ে সুপারিশ করবে।
কমিটির গঠন ও আদালতের নির্দেশ মেনে চলার বিষয়ে কেন্দ্রকে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ২৯ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বিদ্যমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে। বর্তমানে চিকিৎসকরা ওষুধ সংস্থার কাছ থেকে উপহার বা অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও, সেই সুবিধা বা প্রলোভন দেওয়ার ক্ষেত্রে ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে সমতুল্য বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা নেই—এই বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
এদিকে, ওষুধের দাম ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চিকিৎসা পরিষেবা রাখার বিষয়েও সুপ্রিম কোর্ট পৃথকভাবে নজরদারি করছে। একটি ক্যানসারের ওষুধের ক্ষেত্রে খুচরো বিক্রয়মূল্য ও সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যের মধ্যে প্রায় দশ গুণের ব্যবধানের বিষয়টিও আদালতের নজরে এসেছে।
ফলে চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ সংস্থার আর্থিক ও অন্যান্য সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ও সাধারণ মানুষের ওষুধপ্রাপ্তির খরচ—দুই ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান