মনোনয়ন জমা থেকে ভোটগ্রহণ—বিরোধীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি, স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ও রুট মার্চের আবেদন।
আসন্ন আগরতলা পুর নিগম-সহ রাজ্যের ২০টি নগর সংস্থার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করল ছয়টি বামপন্থী সংগঠন। সাক্ষাতের পর আগরতলার মেলার মাঠস্থিত রাজ্য কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচনের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে একাধিক দাবি তুলে ধরেন বাম নেতৃত্ব।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য কনভেনার মানিক দে অভিযোগ করেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা বিভিন্ন রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল।
এ ছাড়া ভোটগ্রহণের দিনেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তাঁরা। বাম নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের একাংশকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং যাঁরা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন, তাঁদেরও জোর করে বের করে দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছে বামপন্থী সংগঠনগুলি। তাঁদের দাবি, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ শেষে বাড়ি ফেরার সময় পর্যন্ত বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা দিতে হবে।
নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য প্রশাসনের কাছে একাধিক দাবি জানিয়েছে বামপন্থী সংগঠনগুলি।
তাদের প্রধান দাবিগুলি হলো: ভোটগ্রহণের দিন সমস্ত ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF/CPMF) মোতায়েনের ব্যবস্থা করতে হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে ভোটের আগে সাত দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক রুট মার্চের ব্যবস্থা করতে হবে। জিরানিয়া, রানিরবাজার, মোহনপুর, শান্তিরবাজার, বিশালগড় ও বিশ্রামগঞ্জ পুর পরিষদ এবং নগর পঞ্চায়েত এলাকাগুলিকে অতি স্পর্শকাতর অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। উল্লিখিত নগর সংস্থাগুলিতে বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা যাতে নিরাপদে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
এই দাবিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন ছয়টি বামপন্থী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ত্রিপুরা লেফট ফ্রন্ট কমিটির আহ্বায়ক মানিক দে, সিপিআই(এম)-এর ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির রতন দাস, সিপিআই-এর ত্রিপুরা রাজ্য কাউন্সিলের মিলন বৈদ্য, আরএসপি-র ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সচিব দীপক দেব, অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লকের রঘুনাথ সরকার এবং সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির পার্থ কর্মকার।
আসন্ন পুর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী প্রার্থীদের নিরাপত্তা, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরিবেশ এবং ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে বামপন্থী সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান