তদন্তের নিশানায় সাময়িক বরখাস্ত আইএএস অভিষেক চন্দ্রের বাসভবন, উদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল সামগ্রী
সরকারি টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগে ত্রিপুরাসহ দেশের মোট তিনটি রাজ্যে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ‘ডাইরেক্টরেট অফ হায়ার এডুকেশন’ নামের একটি ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে সরকারি টেন্ডারের নামে প্রায় ১৪ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই মামলার তদন্তে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ত্রিপুরা ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক অভিষেক চন্দ্রের বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।
পশ্চিম ত্রিপুরার ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআরের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। নাগপুরভিত্তিক সংস্থা ‘এম/এস এসকে সেলস কর্পোরেশন’-এর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সামনে আসে এই আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা। অভিযোগকারী সংস্থার দাবি, মিড-ডে মিল প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন সরকারি টেন্ডারের নামে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১৪ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে।
তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এই অর্থ লেনদেন হয়। বিভিন্ন সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণের জন্য জামানত জমা দেওয়ার কথা বলে অভিযোগকারী সংস্থাকে অর্থ দিতে প্ররোচিত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী তদন্তে দেখা যায়, ত্রিপুরা সরকার সংশ্লিষ্ট টেন্ডারগুলির কোনওটিই জারি করেনি।
ইডির তদন্তে সাময়িক বরখাস্ত আইএএস আধিকারিক অভিষেক চন্দ্রের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, তিনি সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ার উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করতেন। পাশাপাশি অভিযোগকারী সংস্থার সঙ্গে উৎপল কুমার চৌধুরীর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁকে অর্থপ্রদান প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে তদন্তে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি আবাসন প্রকল্পের ফ্ল্যাট এবং মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক এলাকার একটি আবাসিক সম্পত্তি। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিষেক চন্দ্রের পরিবারের সদস্যদের নামে এই সম্পত্তিগুলি কেনা হয়েছিল।
এছাড়াও, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ বিদেশ ভ্রমণ ও বিলাসবহুল সামগ্রী কেনার পিছনে ব্যয় করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। অন্যদিকে, অর্থের একটি অংশ কলকাতার এক সন্দেহভাজন হাওয়ালা অপারেটরের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
তল্লাশি অভিযানের সময় অভিষেক চন্দ্রের বাসভবন, কথিত হাওয়ালা কারবারিদের বাড়ি এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় ইডির দল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাওয়ালা লেনদেন সংক্রান্ত নথি এবং বিভিন্ন সম্পত্তির বিবরণ। পাশাপাশি অভিযুক্তদের ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস ও ইলেকট্রনিক নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ইডির মতে, উদ্ধার হওয়া নথি ও ডিজিটাল তথ্যের মাধ্যমে জালিয়াতির অর্থের উৎস, লেনদেনের গতিপথ এবং অর্থ কোথায় কোথায় সরানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা সম্ভব হবে।
১৪ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকার এই কথিত টেন্ডার জালিয়াতির ঘটনায় আরও কারা জড়িত এবং অর্থের প্রকৃত গতিপথ কী, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান