রুট পারমিট সংক্রান্ত নীতি স্পষ্ট না থাকা সত্ত্বেও ই-রিকশা চালকদের জরিমানা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করল ভারতীয় মজদুর সংঘ (BMS) অনুমোদিত ত্রিপুরা ইলেকট্রিক রিক্সা শ্রমিক সংঘ।
সোমবার সংগঠনের উদ্যোগে নাগেরজলা বাস স্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বটতলা এলাকা পরিক্রমা করে ড্রপগেট ট্রাফিক অফিসের দিকে এগিয়ে যায়। পরে বিক্ষোভকারীরা ড্রপগেট ট্রাফিক অফিস ঘেরাও করে নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরেন।
শ্রমিক সংগঠনের অভিযোগ, ই-রিকশার জন্য নির্দিষ্ট রুট পারমিট ব্যবস্থা বা রুট সংক্রান্ত নির্দেশিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ না করা হলেও ট্রাফিক পুলিশ চালকদের বিরুদ্ধে জরিমানা করছে। তাদের প্রশ্ন, যখন ই-রিকশার জন্য নির্দিষ্ট রুট পারমিটের বিষয়টি স্পষ্ট নয়, তখন কোন নিয়মের ভিত্তিতে চালকদের জরিমানা করা হচ্ছে?
সংগঠনের প্রতিনিধিদের দাবি, বাস কিংবা ম্যাজিক গাড়ির মতো অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রুট বা পারমিটের বিষয়টি উল্লেখ থাকে। কিন্তু ই-রিকশার ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থা না থাকায় চালকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফলে আগে ই-রিকশার রুট ও পারমিট সংক্রান্ত নীতি স্পষ্ট করা এবং তারপর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ই-রিকশা চালিয়ে বহু শ্রমিক ও তাদের পরিবার জীবিকা নির্বাহ করেন। তাই অযৌক্তিকভাবে জরিমানা করা হলে তাদের আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির অবসানে প্রশাসন ও ট্রাফিক দপ্তরকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ড্রপগেট ট্রাফিক অফিস চত্বরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে মূলত নিজেদের দাবি ও সমস্যাগুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতেই এই কর্মসূচি বলে জানিয়েছে ত্রিপুরা ইলেকট্রিক রিক্সা শ্রমিক সংঘ।
শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ই-রিকশার রুট পারমিট নীতি স্পষ্ট করা, জরিমানা সংক্রান্ত সমস্যা পর্যালোচনা করা এবং চালকদের স্বার্থে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান