ভারত ও উজবেকিস্তানের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিল দুই দেশ। তাশকেন্টে উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
উজবেকিস্তানে নিজের চতুর্থ সফরের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন। চলতি বছর ভারত-উজবেকিস্তানের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষিতে সম্পর্কের এই নতুন রূপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতিমধ্যেই ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বাজারে প্রবেশাধিকার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যাংকিং ও পেমেন্ট ব্যবস্থার উন্নয়নে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে।
ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পরিচ্ছন্ন শক্তি, মহাকাশ ও পারমাণবিক শক্তির মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কৃষি ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুই দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা নিয়ে নতুন চুক্তিও হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের শিল্প সংস্থাগুলির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষা, পর্যটন ও সংস্কৃতিতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। উজবেকিস্তানের বৌদ্ধ ঐতিহ্যবাহী স্থান সংরক্ষণ, ছাত্র ও পেশাজীবীদের বিনিময় এবং উজবেকিস্তানে হিন্দি ভাষার প্রসারে স্কলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খেলাধুলার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কুরাশ ও কবাডির মতো ঐতিহ্যবাহী খেলায় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণ ভারতীয় ও উজবেক দাবাড়ুদের আসন্ন লড়াইয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী ভারত-উজবেকিস্তান অংশীদারিত্ব মধ্য এশিয়ায় শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠতে পারে। উজবেকিস্তানের স্বাধীনতার ৩৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সে দেশের রাষ্ট্রপতি ও জনগণকে শুভেচ্ছাও জানান তিনি।
মন্তব্য সমূহ (0)
আপনার মতামত জানান